ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাচ্ছেন যে তিনজন

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : শুধু দীর্ঘ কারাবাস নয়; প্রহসনের বিচারে রীতিমতো মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন তারা। বলা যায়, মাথার উপরেই ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। কিন্তু নিয়তির পরিকল্পনা ভিন্ন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন। এরপর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। আসে বহুল প্রতীক্ষিত সেই নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়ান নেতারা। কিন্তু নিরাশ হননি কেউ। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।

লুৎফুজ্জামান বাবর
২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হন। এরপর একদিনের জন্যও জামিন মেলেনি তার। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর। পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে মলিন মুখে তার হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ছিল চিরচেনা। বাবর আর কোনওদিন জেল থেকে মুক্তি পাবেন এমন ভাবনাও ছিল সুদূরপরাহত। কিন্তু সেটাই আজ বাস্তব।

আগস্টে পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান বাবর। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ফিরে যান নিজের নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

আব্দুস সালাম পিন্টু
বাবরের মতোই আরেক বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু। ২১ আগস্টের সেই গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের ইতি ঘটে। এরপর তিনিও ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ভোটে বিজয়ী হন পিন্টু।

এটিএম আজহারুল ইসলাম
বিপুল ভোটে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেন তিনি। অথচ আর কিছুদিন গেলেই হয়তো তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো।

‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে পরিচিত সেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পরই গ্রেফতার হন আজহার। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগ ধরে কারাবন্দি ছিলেন তিনি। গত বছর ২৮ মে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ঈদের মিছিল ও তিনদিন ঈদ উৎসব আয়োজন করা হবে : আসিফ মাহমুদ

» শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচন : বহাল সবার প্রার্থিতা

» বিএনপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করতে চাচ্ছে: সারজিস

» ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে আমরা সংসদে যাচ্ছি না: নাহিদ

» অস্ত্র-গুলিসহ ডাকাত আটক

» রিশাদকে সামলানোর পরিকল্পনায় পাকিস্তান

» শুধু জুলাই জাতীয় সনদ নয়, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» সংবাদপত্রে ঈদের ছুটি ৫ দিন: নোয়াব

» শরণখোলায় ১৮ ফুট লম্বা অজগরের পেটে ছাগল, পরে সুন্দরবনে অবমুক্ত

» দেড় হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রি দিলেন  সাবেক ইউপি সদস্য

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাচ্ছেন যে তিনজন

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : শুধু দীর্ঘ কারাবাস নয়; প্রহসনের বিচারে রীতিমতো মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন তারা। বলা যায়, মাথার উপরেই ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। কিন্তু নিয়তির পরিকল্পনা ভিন্ন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন। এরপর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। আসে বহুল প্রতীক্ষিত সেই নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়ান নেতারা। কিন্তু নিরাশ হননি কেউ। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।

লুৎফুজ্জামান বাবর
২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হন। এরপর একদিনের জন্যও জামিন মেলেনি তার। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর। পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে মলিন মুখে তার হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ছিল চিরচেনা। বাবর আর কোনওদিন জেল থেকে মুক্তি পাবেন এমন ভাবনাও ছিল সুদূরপরাহত। কিন্তু সেটাই আজ বাস্তব।

আগস্টে পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান বাবর। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ফিরে যান নিজের নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

আব্দুস সালাম পিন্টু
বাবরের মতোই আরেক বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু। ২১ আগস্টের সেই গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের ইতি ঘটে। এরপর তিনিও ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ভোটে বিজয়ী হন পিন্টু।

এটিএম আজহারুল ইসলাম
বিপুল ভোটে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেন তিনি। অথচ আর কিছুদিন গেলেই হয়তো তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো।

‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে পরিচিত সেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পরই গ্রেফতার হন আজহার। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগ ধরে কারাবন্দি ছিলেন তিনি। গত বছর ২৮ মে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com